ডিসি কার্যালয়ের অফিস সহকারীর অবৈধ সম্পদ, দুদকের চার্জশিট দাখিল
নিউজ পোস্ট বিডি নিউজ পোস্ট বিডি
নিউজ পোস্ট বিডি

মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে যাওয়া ডিসি কার্যালয়ের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের মাদারীপুরের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান বাদী হয়ে বিজ্ঞ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে (জেলা ও দায়রা জজ আদালত) এ চার্জশিট দাখিল করেন।
অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমান ফকির (৫৩) রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক। বর্তমানে তিনি মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত। মিজানুর রহমান মাদারীপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের পাঠককান্দী এলাকার মো. কিনাই ফকিরের ছেলে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে দুদকের সহকারী পরিচালক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দুদকের দাখিলকৃত চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, মো. মিজানুর রহমান ফকির ৫৩ লাখ ২০ হাজার ৭৪৭.৫২ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখল করছেন। যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া আসামি ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৯৭০.০৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন রেখে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন। দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের মালিকানা অর্জন করে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। অন্যদিকে আলামত ও রেকর্ডপত্র মোতাবেক দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আরও জানতে পারে যে, আসামি মিজানুর রহমান গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তিনি গাড়ি ক্রয়ের ব্যবসা করেছেন বলে তিনি নিজে তার বক্তব্যে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তার গাড়ি ব্যবসার থেকে প্রাপ্ত ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। যেহেতু তিনি একজন সরকারি কর্মচারি হিসেবে গাড়ি ব্যবসা করার কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন। গণকর্মচারী (আচরণ), ১৯৭৯ এর বিধি-১৭ ধারায় এ বিষয়ে বলা আছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী সরকারের পূর্বানুমোদন ব্যতিরেকে সরকারি কার্য ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবসায়ে জড়িত হতে অথবা অন্য কোনো চাকরি বা কাজ করতে পারবেন না। তিনি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নিয়ম-নীতি ও চাকরিকালীন বিধি-বিধান মানতে বাধ্য।
আসামি একইভাবে গণকর্মচারী আচরণ, ১৯৭৯-এর বিধি-১১ ধারা বিষয়ে বলা আছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার অধিক মূল্যের কোনো স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিভাগীয় প্রধান বা সরকারের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। তিনি ১৯৭৯ এর বিধি-১২ ধারা (ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্লাট ইত্যাদি নির্মাণ অথবা ক্রয়) বিষয়ে বলা আছে যে, কোনো সরকারি কর্মচারী আবেদনের মাধ্যমে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ ব্যতিরেকে ব্যবসায়িক স্বার্থে নিজে বা ডেভোলপারের মাধ্যমে ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট বা ফ্লাট ইত্যাদি নির্মাণ করাতে বা ক্রয় করতে পারবে না। তিনি তা লঙ্ঘন করেছেন। তাছাড়া আসামি নিয়ম বহির্ভূতভাবে সরকারি (ভিপি) সম্পত্তি আইন বহির্ভূত বরাদ্দ নিয়ে ভোগ-দখল করছেন। ভিপি বা অর্পিত সম্পত্তি আইন মোতাবেক যে শহরে লিজ গ্রহীতার নিজস্ব বাড়ি বা জায়গা রয়েছে এবং তাকে ওই শহরের অর্পিত সম্পত্তির কোনো বাড়ি বা জায়গা লিজ দেওয়া যাবে না। এই ধরনের পূর্ব লিজগ্রহীতার লিজ বাতিল করা যাবে। আসামি সজ্ঞানে তা লঙ্ঘন করে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য ভিপি সম্পত্তি আইন বহির্ভূত লিজ বরাদ্দ নিয়ে বাউন্ডারি দরজা-ঘর নির্মাণ করে ভোগ-দখল করছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান বলেন, আসামি মিজানুর রহমান ফকির ০.১৪০০ একর সরকারি (ভিপি) সম্পত্তি বরাদ্দ নিয়ে ভোগদখলে আছেন। ভিপি বা অর্পিত সম্পত্তি আইন মোতাবেক যে শহরে লিজগ্রহীতার নিজস্ব বাড়ি বা জায়গা আছে এবং তাকে ওই শহরের অর্পিত সম্পত্তির কোনো বাড়ি বা জায়গা লিজ দেওয়া যাবে না, এই ধরনের আগে লিজগ্রহীতার লিজ বাতিল করা যাবে।
আসামি সজ্ঞানে তা লঙ্ঘন করে নিজে লাভবান হওয়ার জন্য ভিপি সম্পত্তি আইনবহির্ভূত লিজ বরাদ্দ নিয়ে বাউন্ডারি দরজা-ঘর নির্মাণ করে ভোগদখলে আছেন। তাই প্রাথমিকভাবে পারিপার্শ্বিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আসামি একজন আইন অমান্যকারী এবং একজন সরকারি কর্মচারী হয়ে লাভের আশায় ব্যবসা এবং অবৈধ সুবিধা গ্রহণ করে নানাভাবে দুর্নীতি করেছেন; যা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে।