
নিজেস্ব প্রতিবেদক:
সিলেটে বিভাগের বৃহৎ গ্রামীণ বাজারের মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ ও শাহগলী বাজার। গত বছর শাহগলী বাজার ৭০ লাখ এবং কালিগঞ্জ বাজার ৫৫ লাখ টাকায় ইজারা দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। তবে এ বছর সেই বাজার দুটিই যথাক্রমে ১৪ ও ১০ লাখ টাকা কম মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে কম ইজারা মূল্য নেওয়া হয়েছে উপজেলার আরও ২৫টি বাজারের ক্ষেত্রে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রচার ছাড়া সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজারগুলো কম মূল্যে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার সিলেট জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ইজারা নিতে আগ্রহী ১৫ জন। স্থানীয়রা জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান পলাতক থাকার সুযোগে প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ করে’ স্থানীয় রাজনৈতিক একাধিক নেতা এ কাজ করেছেন। এতে সরকার বড় অংকের রাজস্ব হারিয়েছে।
ডিডি বরাবর আবেদনে ১৫ জন উল্লেখ করেছেন, প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই গত বুধবার হাটবাজারগুলো ইজারা দেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। ওই দিন লোকমুখে জানতে পেরে তারা ইজারায় অংশ নিতে চাইলেও বাধা দেওয়া হয়। ভাগ-বাটোয়ারার মাধ্যমে নির্ধারিত লোকদের ডেকে নিয়ে ইজারা দিয়েছেন ইউএনও। অথচ হাটবাজার ইজারা সংক্রান্ত নীতিমালায় বলা হয়েছে, সরকারি অফিস-আদালত ও জনসমাগমস্থলে নোটিশ টাঙয়ে বা নির্দিষ্ট বাজারে মাইকিং করে ইজারার বিষয়টি জানাতে হবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, পূর্ব সিলেটের বড় হাট জাকিগঞ্জের কালিগঞ্জ ও শাহগলী বাজার ইজারা নিতে প্রতিবছর অনেক সিডিউল বিক্রি হয়। এবার ঘটেছে উল্টো। গত বছর শাহগলী বাজার ৭০ লাখ টাকায় ইজারা হলেও এবার ৫৬ লাখ ৬০ হাজার টাকায় দেওয়া হয়েছে। এতে সরকার রাজস্ব হারিয়েছে প্রায় ১৪ লাখ টাকা। অপরদিকে কালিগঞ্জ বাজার ৪৫ লাখ ৯০ হাজার টাকায় ইজারা দিলেও গত বছর তা ছিল ৫৫ লাখ টাকা। সরকারি রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে পুনরায় ইজারার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শাকুর বলেন, সমঝোতা করে দরপত্র দেওয়া হয়েছে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিলেও তিন বছর ধরে উপজেলায় পত্রিকা আসে না। ভালো করে প্রচার করা উচিত ছিল।
জকিগঞ্জ উপজেলার ইউএনও মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ইজারা দেওয়া হয়েছে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়েছে। সরকারি মূল্যের নিচে যাওয়ার সুযোগ নেই। গত বছরের চেয়ে এবার কম মূল্যে ইজারা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের বিষয়টি জানা নেই। তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন।