কলেজছাত্রীকে হেনস্তা করায় সহপাঠীদের সড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২৫

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের এক ছাত্রীকে হেনস্তার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন সহপাঠীরা। বুধবার (১২ মার্চ) রাত ১০টা থেকে মধ্যরাত ১টা পর্যন্ত উপজেলার চৌমুহনী চৌরাস্তায় তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। এর আগে সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে একলাশপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী-মাইজদী আঞ্চলিক সড়কের দরবেশপুর এলাকায় ছিনতাইয়ের পর হেনস্তা করে সিএনজি অটোরিকশা থেকে শিক্ষার্থীকে ফেলে দেওয়া হয়।

জানা যায়, বুধবার বেগমগঞ্জের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ক্যাম্পাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইফতার মাহফিল ছিল। সদর উপজেলার বাসিন্দা কলেজের একছাত্রী ইফতার মাহফিল শেষে অটোরিকশাযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে অটোরিকশা দরবেশপুর এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশার পেছনের সিটে বসা দুই ব্যক্তি তার হাত মুখ চেপে ধরে হেনস্তা করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীর মোবাইল, গলার চেইন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা। এ সময় শিক্ষার্থী চিৎকার শুরু করলে একলাশপুর বাজারে অটোরিকশা থেকে শিক্ষার্থীকে ফেলে দিয়ে চালক ও দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন এবং তার সহপাঠীদের বিষয়টি জানান শিক্ষার্থী।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে তিন ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখেন। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের আশ্বাসে রাত ১টায় শিক্ষার্থীরা ফিরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।কলেজের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, আমাদের মেয়ে সহপাঠীরা কোথাও নিরাপদ নয়। আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তার স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের পর হেনস্তা করে সিএনজি অটোরিকশা থেকে ফেলে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আমরা কঠোর শাস্তি চাই। আশা করি পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। না হয় আমরা কঠোর কর্মসূচি দেব।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ ইব্রাহীম ঢাকা পোস্টকে বলেন, খবর পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র‍্যাব ঘটনাস্থলে আসে। সিসিটিভি ফুটেজে আমরা দেখতে পেয়েছি, যে অটোরিকশায় ঘটনাটি ঘটেছে সেটির নম্বর প্লেট ছিল না। যার কারণে অপরাধীদের শনাক্তে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারবো।