খেলাফত মজলিস ও লেবার পার্টির মতামত নিল ঐকমত্য কমিশন

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২২, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:

খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির সঙ্গে বৈঠক করে দল দুটির মতামত নিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। শনিবার (২২ মার্চ) দল দুটির সঙ্গে জাতীয় সংসদ ভবনের এল. ডি. হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের নেতৃত্বে খেলাফত মজলিসের প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ।

জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, সংস্কার নিয়ে সব বিষয়ে সব পক্ষের মধ্যে ঐক্যমত্য নিয়ে আসতে এই আলোচনা।

এসময় খেলাফত মসলিসের মহাসচিব ডক্টর আহমদ আবদুল কাদের বলেন, দ্বিমত থাকা বিষয়গুলোতে এই বৈঠকের মাধ্যমে ঐকমত্য আসবে। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পথ বের হবে। জাতির এগিয়ে যাওয়ার পথ খুলবে বলে প্রত্যাশা করি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের ১৬৬টি প্রস্তাবনার মধ্যে ১৪০টি একমত খেলাফত মজলিস। ১০টিতে একমত না, অন্যগুলোতে আংশিক একমত। সংবিধানে প্রস্তাবিত বহুত্ববাদ যুক্ত করা যাবে না, আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা সংবিধানে থাকতে হবে। সংসদের মেয়াদ হবে ৫ বছর, উচ্চকক্ষে ১ শতাংশ ভোট পেলেই প্রতিনিধি দেওয়ার বিধান করতে হবে। গণপরিষদ নির্বাচনের পক্ষে না খেলাফত মজলিস। সংসদের আসন ৪০০ করার পক্ষে আমরা। তবে নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা উন্মুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছি৷ সাংবিধানিক কাউন্সিলের ব্যাপারে আমরা একমত।

এছাড়া নির্বাচনের আগেই সংস্কার, সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন ও ইসলামের স্পষ্ট বিধানের বিরুদ্ধে কোনো আইন করা যাবে না তা সংবিধানে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।এদিকে লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টি- দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট পার্লামেন্টের পক্ষে। দেশকে চারটি প্রদেশে ভাগের পক্ষে নই। এতে নানা সমস্যা তৈরি হবে। এই পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বারদের ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিষয়টি সঠিক হবে না। আগের নিয়মে সরাসরি ভোট হোক। জেলা পরিষদ কার্যকর করার প্রস্তাব করেছি আমরা। একই ব্যক্তি দুইবার প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কিন্তু পরপর দুইবার রাষ্ট্রপতি হতে পারবেন না বলে মতামত জানিয়েছি। সরকারি চাকরি থেকে অবসরের যাওয়ার পাঁচ বছর পর একজন ব্যক্তি নির্বাচনে যাওয়া উপযুক্ত হবেন এমন বিধান করার প্রস্তাব দিয়েছি বলে জানান তিনি৷