দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমনের কথা জানালেন দুই উপদেষ্টা

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দেশে অস্থিরতা ও ফ্যাসিবাদ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ ও শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহিদ পরিবার ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তারা এ কথা জানান।ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ বলেছেন, ‘অন্তর্র্বতীকালীন সরকার কোনও রুটিন সরকার নয়। এটা ছাত্রজনতার মাধ্যমে গঠিত সরকার। দেশের প্রশাসন থেকে শুরু করে সবকিছু চালিয়ে নেওয়ার জন্য ছাত্ররা আমাদের ওপর একটি দায়িত্ব দিয়েছে। এ দায়িত্ব পালনে আমরা বদ্ধপরিকর। দেশের মানুষের মাঝে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চাইলে তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ এই কারণে যে, আইনজীবী শহিদ সাইফুল ইসলামকে হত্যা করে একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। আপনারা আবেগকে ধরে রেখে তাদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেননি।’তিনি আরও বলেন, ‘একটি সরকার যখন বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অপসারিত হয়, তারা কিন্তু সহজে ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। এটার প্রমাণ আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা তাদের অবস্থান জানান দিচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে সবার মাঝে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’

শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রকারীদের কোনও স্থান নেই। এ দেশ অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার ফলে তৈরি হয়েছে। আজকে মানুষ স্বৈরাচারী সরকারকে পতন করে নতুন দেশের সূচনা করেছে। কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে, যেটা কোনোমতেই হতে দেওয়া যাবে না। আমি পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই, ফ্যাসিবাদের পতন হয়ে গেছে- ঘুরে দাঁড়াবার চেষ্টা করবেন না, আমরা কঠোর হাতে দমন করবো। শহিদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সংস্কারের কাজ যাতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি এবং সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারি সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

সভায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের সভাপতিত্ব করেন। সেখানে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব হামিদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান, অতিরিক্ত ডিআইজি এস এম মোস্তাইন হোসেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ এরশাদুল্লাহ, গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা জোনায়েদ আহমেদ সাকিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শহিদ পরিবারের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা উপস্থিত ছিলেন।