
ডেস্ক রিপোর্ট:
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় আবারও বোমা বর্ষণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ভোরে ইসরাইলি বাহিনী গাজায় এই হামলা চালায়। খবর আলজাজিরার।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সোমবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে, মিশর ফিলিস্তিনের এই ভূখণ্ডে যুদ্ধবিরতি ফেরাতে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মিশর। ইসরায়েল এখনো সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেনি।
গাজার যুদ্ধবিরতি গত ১৯ জানুয়ারি শুরু হলেও, ১৮ মার্চ (মঙ্গলবার) ইসরাইল হামলা শুরু করে, যা থেকে এ পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন নারী ও শিশু। হামাস জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা হামলায় নিহত হয়েছেন।
মিশরের দেওয়া প্রস্তাব থেকে জানা যায়, হামাস প্রতি সপ্তাহে পাঁচজন ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দেবে। ইসরায়েলের প্রথম সপ্তাহের শেষে যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করবে। বর্তমানে হামাসের হাতে ৫৯ জন জিম্মি রয়েছে। যাদের মধ্যে ২৪ জন জীবিত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, মিশরের প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস সম্মত হলেও, ইসরাইল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। হামাসের পক্ষ থেকেও এই প্রস্তাব সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু বলা হয়নি, তবে মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
মিশরের প্রস্তাবে গাজা থেকে ইসরায়েলের সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের সময়সূচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিশ্চয়তা দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে হামাস জিম্মিদের মুক্তি দেবে।
অন্যদিকে, রাফা নগরীর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী টেল আল-সুলতান এলাকায় প্রবেশ করায় হাজারো মানুষ আটকা পড়েছে। খাবার, পানি ও ওষুধ ছাড়াই ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে তারা।
ফিলিস্তিনি নাগরিক সুরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, রাফায় ৫০ হাজার মানুষ আটকা পড়েছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ) জানিয়েছে, গাজায় সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১ লাখ ২৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংস্থাটি মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, অবরোধ বন্ধ করতে হবে। কেননা এটি মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।