শ্রাবণের কান্নায় কাবরেরার চোখে জল

প্রকাশিত: ১০:০৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২৫

ক্রীড়া ডেস্ক:

 

আগামী ২৫ মার্চ শিংলয়ে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচের আগে লাল-সবুজ শিবিরের পরিস্থিতিটা এখন এমনই হয়েছে যে, বাংলাদেশ দলের স্প্যানিশ কোচ কাবরেরার সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের মানসিক দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। কাবরেরার কিছু সিদ্ধান্ত সংবাদ মাধ্যমের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করছে। শিলংয়ে আসা সংবাদ মাধ্যম অসন্তুষ্ট হচ্ছেন কোচের ওপর। টিম হোটেলে সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশ নিষেধ করেছেন কোচ। বাফুফের মিডিয়িা বিভাগ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তারা সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে সহযোগিতা চান। সাংবাদিকরা যেন টিম হোটেলে না যান। গতকাল কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমকে দেখে টিমের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। এমনকি হোটেল কর্তৃপক্ষ থেকেও সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশে নানা প্রশ্ন করছেন এবং একপর্যায়ে বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আপনারা লবি ছেড়ে দিন।’

এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার পরই গ্রুপ মেসেজে ভারতে আসা বাংলাদেশের সাংবাদিকদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়-হোটেলে না গিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ। শিলংয়ে আসা সাংবাদিকদের অনেকেই ক্ষেপেছেন কোচের ওপর। তিনি কেন সাংবাদিকদেরকে হোটেলে ঢুকতে আইন করে দেবেন। বাফুফের সূত্রের খবর কোচ নাকি বলে দিয়েছেন তিনি কোনো সাংবাদিককে হোটেল লবিতে দেখতে চান না। কেন চান না সেটি নিয়ে কথা বলতে চাইলেও নাকি শুনছেন না। হোটেল লবিতে কেউ বসে থাকলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ তুলে দেয় না। সাংবাদিকরা বলছেন তারা কফি খেতে যাবেন। কাবরেরার কী বলার আছে। কেউ বলছেন সব সাংবাদিক মিলে টিম হোটেলে রুম নেবেন। তখন কী হবে। নানা সমালোচনা করা হচ্ছে।

ভেতরের খবর হচ্ছে-একটি সংবাদমাধ্যম খেলোয়াড়দের খাওয়ার সময় ভিডিও করেছে। পরবর্তী সময়ে তাকে বের করে দেওয়া হয়। আর এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ফেসবুকে একটি পোস্ট করা নিয়ে ক্ষেপেছেন কোচ। ফাহমিদুল ইসলামের দলে সুযোগ না পাওয়ার পেছনে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণের কথা বলা হয়েছে। সেটি দেখে শ্রাবণ কান্না করেছেন। শ্রাবণ কেন কাঁদলেন তার জন্য হ্যাভিয়ের কাবরেরা মন খারাপ করেছেন। বার্তা পাঠালেন যিনি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন সেই সংবাদকর্মী যদি অনুশীলন মাঠে থাকেন তাহলে কাবরেরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না বলে সাফ জানিয়ে। পরে বাধ্য হয়ে তাকে সরিয়ে দিলে কোচ কথা বলতে আসেন।

ফেসবুকে লেখা কথা, বাইরের কথা। সেসব টেনে কেন জাতীয় দলের অন্দর মহলে অশান্তির সৃষ্টি হচ্ছে-তা বোধগম্য নয়। ফেসবুকে নয়, কোচের ফোকাস থাকবে দল নিয়ে। খেলোয়াড়রাও সেটাই করার কথা। কিন্তু ভারত ম্যাচের আগে শত ব্যস্ততার মধ্যে খেলোয়াড়রা ফেসবুক চালাচ্ছেন। কোথায় কী বলা হচ্ছে সেটি নিয়ে শ্রাবণরা কান্না করছেন। যারা এত সহজেই কান্না করেন তারা জাতীয় দলের মতো শক্ত জায়গায় নিজের অবস্থান ধরে রাখবেন কীভাবে। শ্রাবণের কান্নায় মনে হচ্ছে কাবরোর চোখেও জল এসে গেছে। তা না হলে এত তুচ্ছ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সাংবাদিকদের জন্য হোটেল লবি নিষিদ্ধ করছেন, অনুশীলন মাঠে কথা বলার আগে শর্ত দিলেন। গত তিন দিনের অনুশীলনে নিজেকে আড়াল রাখলেন। প্রথম দিন ফেসবুকে লেখা সেই সাংবাদিককে বাইরে রেখে কথা বলতে বাধ্য করলেন। গত দুই দিনে হ্যাভিয়ের কথাও বললেন না।