অর্থাভাবে মিলছে না চিকিৎসা গাছতলায় শিকলবন্দি জীবন

প্রকাশিত: ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০২৪

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি:

জন্মের পর থেকেই শিকলবন্দি অবস্থায় জীবন কাটছে বাকপ্রতিবন্ধী জামির উদ্দিনের। সারাদিন বাড়ির আঙিনায় একটি গাছের ছায়া তাঁর থাকার নির্ধারিত জায়গা। অর্থের অভাবে দরিদ্র বাবা-মা জামিরের সঠিক চিকিৎসা করাতে পারছেন না। জামিরের বাড়ি নান্দাইল উপজেলার আলীহরগাতী গ্রামে।
বীর বেতাগৈর ইউপির আলীহরগাতী গ্রামের দিনমজুর রমজান আলীর তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে জামির উদ্দিন (২২) দ্বিতীয়। কিছু দিন আগে মারা গেছে তাঁর একমাত্র বোন। কিছুটা মানসিক বৈকল্যে ভুগছেন তিনি। এ কারণে ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর ও লোকজনকে মারধরের চেষ্টা করে। কখনও হঠাৎ করেই নিরুদ্দেশ হয়ে যান। একবার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। এরপর থেকেই ঝামেলা এড়াতে পরিবারের লোকজন প্রতিবেশীদের সহায়তায় শিকল দিয়ে গাছতলায় বেঁধে রাখেন।
বাড়িতে গিয়ে কাছাকাছি পাকা সড়কের পাশে পাওয়া যায় জামিরকে। এ সময় একটি রেইন্ট্রি গাছে শিকল দিয়ে বাঁধা জামির অন্য একটি গাছের কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের অঙ্গভঙ্গি করছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারাদিন তাঁকে গাছতলাতেই থাকতে হয়। খাওয়া-দাওয়া থেকে প্রাকৃতিক কর্ম– সবকিছুই সারতে হয় সেখানেই। যেহেতু কথা বলতে পারেন না, তাই সবকিছু বুঝে বুঝে তাঁর মা-বাবাকে সময়মতো করে দিতে হয়। ব্যতিক্রম হলেই নানা ধরনের ঝামেলার সৃষ্টি হয়। ঘরে রাখা হলে পায়খানা-প্রস্রাব করে সব নষ্ট করে ফেলেন বলে শুধু রাতেই ঘরে যাওয়ার সুযোগ মেলে তাঁর।
জামিরের চাচা শামছুল ইসলাম জানান, ছেলেটাকে নিয়ে তাঁর মা-বাবা খুব কষ্ট করছেন। একবার যদি সে ছাড়া পায়, তাহলে সারাদিনেও তাঁকে ধরা যায় না। বৃদ্ধ মা-বাবার পক্ষে এ ছেলেকে সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। এই বয়সী ছেলেরা কাজ করে সংসার চালালেও তাঁকে শিকলবন্দি থাকতে হয়।
জামিরের মা জুলেখা আক্তারের ভাষ্য, বৃদ্ধ বয়সে জামিরের সেবা করতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেন তিনি। টাকাপয়সার অভাবে ছেলেটার সঠিক চিকিৎসা করাতে পারেননি। জামিরকে টিনের চালার নিচে রাখতে সমস্যা হচ্ছে কিনা তার উত্তরে জুলেখা বলেন, ‘ঠিকমতো খেতেই দিতে পারি না, ঘর তৈরি করে দেই কীভাবে।’
ইউপি সদস্য নয়ন মিয়া জানান, জামিরের বাবার ভিটেমাটি ছাড়া কোনো জমিজমা নেই। মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। কিন্তু বয়স বেড়ে যাওয়ায় এখন আর তেমন কাজকর্মও করতে পারেন না। এ ছাড়া জামিরের একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড রয়েছে। এসব দিয়ে কোনোক্রমে চলছে পরিবারটি।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও মনোরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. হেফজুল বারী খান সমকালকে বলেন, জামিরের মতো শতকরা ৮০ ভাগ রোগী চিকিৎসায় ভালো হয়। জামিরও ভালো হবে তবে, তাঁর দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা দরকার।