৪৩ বছরেও জনবলসংকট কাটেনি বিপিসিতে

প্রকাশিত: ১০:৪৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৫, ২০২৫

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জনবলসংকট কাটেনি। বারবার সংশোধিত অর্গানোগ্রাম বা জনবলকাঠামোর প্রস্তাব সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও গত ৪৩ বছরে অনুমোদন মেলেনি বলে অভিযোগ চট্টগ্রামস্থ সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের একাধিক সূত্রের।

প্রধান কার্যালয়ের সংস্থাপন ও অন্য প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ইস্টার্ন রিফাইনারিসহ বিপিসির তিন বিপণন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা চট্টগ্রামে হওয়ায় বিপিসির প্রধান কার্যালয়ের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তার পরও দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটিতে জনবলের ঘাটতি পূরণ হয়নি। বিপিসির প্রস্তাবিত অর্গানোগ্রাম সর্বশেষ অনুমোদিত হয়েছিল ১৯৮৯ সালে। এরপর বহুবার সংশোধিত প্রস্তাব পাঠানো হলেও অনুমোদন মেলেনি। বিপিসিতে বর্তমানে কর্মকর্তা কর্মচারীর সংখ্যা ১৭৮। সংশোধিত জনবল কাঠামোর যে নতুন প্রস্তাব মন্ত্রণালয় হয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে গেছে, তাতে আরও ২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিপিসির প্রধান কার্যালয়ের সচিব শাহিনা সুলতানা বলেন, সর্বশেষ জনবলকাঠামোর যে প্রস্তাব জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, তা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার আগে বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ে তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। নতুন প্রস্তাবে ২৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী বাড়ানোসহ নিয়মিত কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে শীর্ষ পদে পদায়নের অনুরোধ করা হয়েছে।

বিপিসির একটি প্রশাসনিক সূত্র জানায়, নতুন জনবলকাঠামো প্রস্তাবে বিপিসির শীর্ষ পদসমূহে অন্তত দুইটি পদে বিপিসির সিনিয়র কর্মকর্তাদের পদায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ঐসব শীর্ষ পদে প্রশাসন থেকে শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়, ফলে বিপিসির সিনিয়র কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন সংস্থাটিতে কাজ করে ঐসব পদে পদোন্নতি পাচ্ছেন না। তারা পর্যাপ্ত অভিজ্ঞ সত্ত্বেও শীর্ষপদে নিযুক্ত হয়ে সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারছেন না।

সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সংগঠক ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগে কর্মরত অতিরিক্ত সচিব মো. এরফানুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘এ ব্যাপারে দাপ্তরিক চিঠি পাওয়া গেলে বিপিসির নতুন প্রস্তাবটি আদৌ সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে এসেছে কি না এবং কী অবস্থায় আছে তা বলা যাবে। আমার কাছে বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১৮০টি জনবলকাঠামোর প্রস্তাব পেন্ডিং আছে। অনেক প্রস্তাব নির্ধারিত ফরমেটে আসে না। ফলে সেগুলো বারবার সংশোধন করার জন্য ফেরত পাঠানো হয়। যেটি ফরমেট অনুসারে আসে সেটির সংশ্লিষ্ট সংস্থায় সরেজমিনে পরিদর্শনে যাই। এরপর একটি আলোচনা-পর্যালোচনার ভিত্তিতে ঠিক করি জনবল কত বাড়ানো যায়।’