পেঁয়াজের ফলন ও দামে অখুশি চাষি

প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০২৫

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

 

দেশের বৃহত্তম পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকুপার হাট-বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়েছে। তবে আশানুরূপ ফলন ও দাম না হওয়ায় হতাশ চাষিরা। তারা বলছেন, সাধারণত গড়ে বিঘাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। সেখানে বিঘাপ্রতি গড়ে ২০ থেকে ৩০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে প্রতি মণ সর্বোচ্চ ৮শ থেকে ১১শ টাকা। এরকম মূল্য থাকলে আমাদের লাভতো দূরে থাক আসল নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার ১৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে পেঁয়াজ রোপণ হয়েছে। যা গত মৌসুমের তুলনায় ৫ হাজার হেক্টর বেশি।

শনিবার শৈলকুপা বাজারের পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা চাষি শরিফ বিশ্বাস বলেন, পেঁয়াজের যে দাম তাতে খরচের টাকা ওঠা মুশকিল। এবার বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা মণ। হাইব্রিড জাতের সুখসাগর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে ৮’শ টাকা মণ। গড়ে বিঘাপ্রতি উৎপাদন হয়েছে ২০ থেকে ৩০ মণ। ফলে পেঁয়াজ বিক্রি করে উৎপাদন খরচ
ঘরে আসবে না।

আউশিয়া গ্রামের চাষি মনিরুল ইসলাম বলেন, ৭ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদন করেছি। বিঘাপ্রতি খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ থেকে ১১শ’ টাকা মণ। লোকসানের মুখে আমরা।

পাইকারি ব্যবসায়ী রোকনুজ্জামান বলেন, বাজারে পেঁয়াজ বেশি। তাই ১১শ’ থেকে ১২শ’ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ মজুতদার হাজী নুরুজ্জামান বলেন, গত মঙ্গলবারের তুলনায় শনিবার পেঁয়াজের মণে ১ থেকে ২শ’ টাকা বেশি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, পেঁয়াজের ফলন অনেক কম। ফলে এখন যে দাম তাতে চাষির খরচের টাকা পূরণ হবে না। দাম একটু বাড়লে চাষিরা পরিশ্রমের টাকা তুলতে পারবে।