কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর প্রধান সড়কসহ অলিগলি
নিউজ পোস্ট বিডি নিউজ পোস্ট বিডি
নিউজ পোস্ট বিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সারাদিন হালকা-মাঝারি বৃষ্টিতে কিছুটা আরামেই কাটছিল রাজধানীবাসীর। ঝরেছে থেমে থেমে বৃষ্টি। কিন্তু কে জানত টানা বর্ষণ থামবেই না। সন্ধ্যা নামতেই শুরু ঝুম বারিধারা। এরপর আর থামছেই না। রাত সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নগরীতে অঝোর ধারায় বৃষ্টি হচ্ছিল।
কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে রাতভর কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল গোটা রাজধানী। ডুবে গিয়েছিল শহরের বেশকিছু সড়কসহ অলিগলি। অনেক এলাকার ফুটপাতও ছিল পানির নিচে। চলতি বছরের মধ্যে আজ বৃষ্টিতে ভোগান্তির মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। এসব রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে ছিল ছোট-বড় নানা ধরনের যানবাহন। হেঁটে যেখানে যেতে ১০ মিনিট লাগে, গাড়িতে সেই জায়গায় যেতে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগেছে। ফলে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদদের ভাষায় এটি মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি। আর রাত ৯টার পরের তথ্য রাত সাড়ে ১১টায়ও দিতে পারেনি আবহাওয়া অধিদপ্তর। মূলত রাত ৯টার পর চলা টানা বৃষ্টির প্রভাব পড়ে রাজধানীজুড়ে।
ভারী বৃষ্টিপাতে ধানমন্ডি, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, নীলক্ষেত, ঢাবি ক্যাম্পাসের বেশ কয়েকটি সড়ক, পলাশী মোড় থেকে আজিমপুর মোড় হয়ে আজিমপুর কবরস্থান মোড় ও আজিমপুর এতিমখানা মোড়, মিরপুর, বনানী, ফার্মগেট, তেজগাঁও, মতিঝিল, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠে গেছে। বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিউজ পোস্টকে জলবাদ্ধতার খবর জানিয়েছেন।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি গলি থেকে একজন ভিডিও করে পাঠিয়েছে গণমাধ্যমের কাছে। সেখানে একটি গলিতে হাঁটু পানি দেখা গেছে। দুই পাশের দোকানেও পানি প্রবেশ করেছে।
শান্তিনগর থেকে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করে একজন লিখেছেন, ‘নদীর নাম শান্তিনগর।’ এছাড়া মিরপুর রোড, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউর বিভিন্ন অংশ, আসাদ গেট, তেজতুরী বাজার, কারওয়ান বাজার, রায়েরবাজার, আজিৃমপুর ও হাজারীবাগ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকাজুড়ে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগ ছিল অবর্ণনীয়। দৈনিক বাংলা, পুরানা পল্টন, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা থেকে শুরু করে সংলগ্ন এলাকায় রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি।
রাজধানীর পান্থপথ থেকে নিকুঞ্জগামী সবুজ ভুঁইয়া বলেন, অফিস থেকে বাসায় ফেরার মতো অবস্থা নেই। সব সড়ক পানিতে ডুবে গিয়েছে। এছাড়া বৃষ্টির জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্য সব যানবাহনের ভাড়াও বাড়তি চাওয়া হচ্ছে।
জলমগ্ন সড়কে আটকা পড়ে দীর্ঘক্ষণ কাটাতে হয়েছে অনেককে। তাদের মধ্যে একজন মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, আগে কখনো ঢাকায় এতটা জলাবদ্ধতার শিকার হয়নি। সড়কে মোটরসাইকেল চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে।
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও আশেপাশের এলাকায় সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপের কারণে শুক্রবার পর্যন্ত মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছিল।
রাত সোয়া ১০টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত সারাদিনের গড় বৃষ্টিপাত ছিল ৯ মিলিমিটার। তবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ২৩ মিলিমিটার গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। রাতে হয়ত প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হতে পারে।
নগর–পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, ঢাকার যে অবস্থা তাতে অতিবৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা হবে না-এ ধারণাটাই বরং ভুল। ভুল পরিকল্পনার পাশাপাশি জলাধার জলাশয় সব শেষ করে দেয়া হয়েছে। এখন যতই প্রাতিষ্ঠানিক কাজ চলুক না কেন হঠাৎ এত বৃষ্টি হলে তা সামাল দেয়া বর্তমান ড্রেনেজ সিস্টেমের পক্ষে অসম্ভব।
পুরান ঢাকার বংশাল ও বাংলাবাজার, জুরাইন, যাত্রাবাড়ীর কাজলা, গুলশানের শুটিং ক্লাব মোড়, তেজগাঁও-গুলশান লিংক রোড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, কাকরাইল, বিমানবন্দর সড়কে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পানি জমে থাকার খবর পাওয়া গেছে। ওই সব এলাকা ও রাস্তায় যান চলাচলের গতি কমে তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।
আজ রাত ১১টার দিকে রাজধানীর বেগম রোকেয়া সরণিতে কয়েক শ গাড়ি আটকা পড়ে। এর আধা ঘণ্টা আগেই তলিয়ে যায় গ্রিন রোড এলাকা। রাত সোয়া ১০টার দিকে ওই সড়কে বহু গাড়ি আটকে থাকতে দেখা যায়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে নীলক্ষেত, কাঁটাবন, হাতিরপুল এলাকার সড়কেও পানি জমতে দেখা যায়।
পরিস্থিতি আগের চেয়ে আরও খারাপ হওয়ার পেছনে শহরে বিভিন্ন এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজের কারণে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া, নালাগুলো ঠিকমতো পরিষ্কার না করা, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তরা। তাঁরা বলছেন, রাস্তা থেকে নদী পর্যন্ত পানি যাওয়ার প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। এ জন্য ঢাকা ওয়াসা ও দুই সিটি করপোরেশনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি নালা ও খালে যাতে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা হয়, সে ব্যাপারেও সচেতন হতে হবে।